All news

খুলনায় অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করতে বসুন্ধরা শুভসংঘের সেলাই মেশিন বিতরণ

খুলনায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সেলাই মেশিন পেলেন ৬০ অসচ্ছ্ল নারী

‘চারটি ছেলে-মেয়েসহ ছয়জনের পরিবারে কাজ করার মানুষটিও দুর্ঘটনায় ঘরে বসে আছে। বাচ্চাদের স্কুলের খরচ চালানো কঠিন। একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। এই সেলাই মেশিনে যেন প্রাণ ফিরে পেলাম। অন্তত কাজ করে খেতে পারবো, বাঁচতে পারবো।’—কথাগুলো বলতে বলতে নিজের কষ্ট আর স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন খুলনা নগরীর দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশার বাসিন্দা হনুফা বেগম।

শুধু হনুফা বেগম নন, নিত্যদিনের জীবনসংগ্রাম আর টিকে থাকার লড়াইয়ে থাকা এমন ৬০ জন অসচ্ছল ও অসহায় নারী সেলাই মেশিন পেয়ে তাদের আবেগ ও আশার কথা জানান। বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে শনিবার খুলনার খালিশপুরে কলেজিয়েট গার্লস স্কুল মিলনায়নে এসব সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি হাজী মুহাম্মদ মুহসিন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফারুক-ই-আযম। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান। এ সময় বক্তব্য রাখেন খুলনা আঞ্চলিক সংবাদপত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক খুলনাঞ্চল সম্পাদক মিজানুর রহমান মিলটন, খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সৈয়দা ইশরাত জাহান, খুলনা বিদ্যুৎকেন্দ্র জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা হাফেজ আবেদ আলী শরীফ, নিউজপ্রিন্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহিনা খাতুন এবং খালিশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলামসহ অন্যান্য অতিথিরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ফারুক-ই-আযম বলেন, বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ। আয় কম, সঞ্চয় কম, মূলধন কম—ফলে বিনিয়োগও কম। এভাবেই দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র তৈরি হয়। এই চক্র ভাঙতে হলে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ জরুরি। তিনি বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ অসচ্ছল নারীদের জন্য যে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয় ও অন্যদের জন্য অনুকরণীয়। অনেক মা-বোন একটি সেলাই মেশিন দিয়েই সংসার চালাচ্ছেন। আজ যারা মেশিন পেলেন, তারাও আগামী দিনে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই বসুন্ধরা গ্রুপ অসচ্ছল নারীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন দুর্যোগেও এই প্রতিষ্ঠান মানুষের পাশে থাকে। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের নির্দেশনায় বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন বিতরণের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া নারীদের জীবন আলোকিত করার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

বিনামূল্যে সেলাই মেশিন পেয়ে খুশি এসব নারী জানান, এর মাধ্যমে তারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। মেশিন পেয়ে নিজের স্বপ্নের কথা জানান মন্দিরা রায় পূজা। তিনি বলেন, ‘আমি যেমন বসুন্ধরা গ্রুপের কাছ থেকে উপকৃত হয়েছি, তেমনি নিজের সাধ্য অনুযায়ী কাজ করে অন্যদের পাশেও দাঁড়াতে চাই, যাতে তারাও স্বাবলম্বী হতে পারে।’

SOURCE : BPC