All news

বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ

বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৩৭১ নারী পেলেন ৭০ লাখ টাকার সহায়তা

২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ কার্যক্রম। এর মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন ৩০ হাজারের বেশি দরিদ্র নারী। বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, নবীনগর ও কুমিল্লার হোমনায় এ ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১১ মে) বাঞ্ছারামপুরের জগন্নাথপুর আধুনিক অডিটোরিয়ামে ৮৩তম ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এ আয়োজনে ৩৭১ জন উপকারভোগীর মাঝে ৭০ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়।
বিভিন্ন গ্রামের দরিদ্র নারীদের হাতে ক্ষুদ্রঋণের টাকা তুলে দেন বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী ও বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম নাসিমুল হাই। বসুন্ধরা গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাত থেকে ঋণের টাকা পেয়ে দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকা অসহায় নারীদের বেশ উচ্ছ্বসিত দেখা যায়। খোশকান্দি গ্রামের রহিমা বেগম বলেন, সুদ নাই, কোনো বেশি টাকা দিতে হয় না।

এর থেকে আর সুবিধা কী হতে পারে? এবার নিয়ে তিনবার ঋণ পেলাম। আগের দুইবারে আমার অনেক লাভ হয়েছে। কিছু পুঁজি জমিয়েছি। সেই টাকার সঙ্গে এবার পাওয়া টাকা মিলিয়ে একটি গরু কিনব।
এক বছর গরুটি পালন করতে পারলে অনেক লাভ হবে। আমার মতো অনেক মানুষ এই টাকায় উপকার পেয়েছে।
আসাদনগর গ্রামের হালিমা বলেন, স্বামীর চায়ের দোকানে টাকা খাটিয়েছি। প্রতিদিন দোকানে ভালো লাভ হয়। দোকানটাও আস্তে আস্তে বড় করছি।

এখন আমাদের চলতে কোনো সমস্যা হয় না। বসুন্ধরার মালিকের জন্য অনেক দোয়া করি। আল্লাহ যেন তাকে অনেক বছর বাঁচিয়ে রাখেন।
এম নাসিমুল হাই বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও এমন সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ দেওয়া হয় না। বসুন্ধরা গ্রুপ, বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালনা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বহু নারী স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারছেন। দরিদ্র পরিবারের নারীদের স্বাবলম্বী করতে বসুন্ধরা গ্রুপের এটি একটি অনন্য উদ্যোগ। 
ময়নাল হোসেন চৌধুরী বলেন, ২০ বছরের বেশি সময় ধরে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের এ সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনটি উপজেলার ৩০ হাজার ৬০৬ জন নারী স্বাবলম্বী হয়েছেন। তারা নিজেদের পরিবারকে সহায়তা করতে পারছেন। বসুন্ধরা গ্রুপের মাননীয় চেয়ারম্যানের স্বপ্ন একটি দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়া। আপনারা স্বাবলম্বী হতে পারলেই আমাদের লক্ষ্য পূরণ হবে। যারা ঋণ পাচ্ছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ—এই টাকা কোনো অবৈধ কাজে ব্যবহার করবেন না। সৎ পথে বৈধ আয় করে সেই টাকা সংসারের কাজে লাগাবেন। বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকপক্ষের জন্য দোয়া করবেন। আপনারা সবাই ভালো থাকুন।

টাকা হাতে পেয়ে হাস্যোজ্জ্বল মুখে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন নারীরা। অনেকে টাকা গুনে গুনে দেখছিলেন, ঠিক আছে কি না। তাদের দেখে মনে হচ্ছিল, যেন তারা স্বপ্ন পূরণের পথ খুঁজে পেয়েছেন। এখন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আশায় বুক বেঁধে বাড়ির পথে ফিরছেন।

স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, উপজেলার অনেক দরিদ্র পরিবার বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ পেয়ে স্বাবলম্বী হয়েছে। প্রায় ২০০ নারী বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন পেয়েছেন। শত শত শিক্ষার্থী বসুন্ধরার সহায়তায় পড়াশোনা করছে। উপজেলাজুড়ে বসুন্ধরা গ্রুপের নানা সহায়তায় আলোর পথ দেখছে হাজারো পরিবার।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ডিজিএম মাইমুন কবির, ডেপুটি ম্যানেজার মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।

SOURCE : কালের কণ্ঠ