Pre-loader logo

হারের কথা কখনোই ভাবেননি মুশফিক

হারের কথা কখনোই ভাবেননি মুশফিক

৩৩.৩ ওভারে এল্টন চিগুম্বুরার বাউন্সারে হুক করেন তাইজুল ইসলাম। শটটি সীমানার বাইরে যেতেই জয়ানন্দে লাফিয়ে উঠেন মুশফিকুর রহিম। তাইজুলও উইনিং শটটি খেলে চুমু খান ২২ গজের উইকেটে। কাল বিকালে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে দুই ক্রিকেটারের এমন উচ্ছ্বাস দেখে কোনো কিছু না ভেবেই বলা যায়, কতটা নির্ভার হয়েছেন টাইগাররা। গত ১০ মাস ধরে হারের বৃত্তে ঘুরপাক খেতে খেতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মুশফিকদের কাছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই জয় শুধু আনন্দেরই নয়, স্বস্তিরও। হাফ ছেড়ে বাঁচার। সামনে এগিয়ে যাওয়ার। অথচ কাল সারা দিনের চিত্র কিন্তু কোনোভাবেই স্বস্তি উপহার দেওয়ার মতো ছিল না। পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা টেস্ট হেরেও যেতে পারতেন মুশফিকরা। হারের অবস্থাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু দলের কাণ্ডারি মুশফিকের মনে কখনই মনে হয়নি ম্যাচটি হারতে পারেন।
২০১৩ সালের এপ্রিলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষবার জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর টানা দুই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ। অবশেষে ঘরের মাটিতে বসুন্ধরা সিমেন্ট সিরিজে অধরা জয়ের দেখা। ৩ উইকেটের জয় পেলেও সেটা ছিল কষ্টার্জিত। তারপরও এমন জয়ে হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন মুশফিক, ‘টেস্ট জয়ই একটি বিশাল ব্যাপার। বিশেষ করে আমাদের দলের জন্য। জয়ের সুযোগ সব সময় আসে না। এ বছর অনেকগুলো ম্যাচ খুব কাছাকাছি এসে হেরে গেছি। আজ এমন পরিস্থিতির তৈরি হলেও নার্ভ ধরে রাখতে পেরেছি। আমি মনে করি এটা আমাদের জন্য প্লাস পয়েন্ট। সবকিছুকে পিছনে ফেলার জন্য আমাদের একটি জয় দরকার ছিল। হয়তো এমনভাবে জিতব ভাবিনি। ব্যাটসম্যানরা আরও উন্নতি করলে জয়টা সহজ হতো। অবশ্য আমি এখন মনে করি, আমরা এখন আত্মবিশ্বাসী।’
কাল তৃতীয় দিন ১৭ উইকেটের পতন হয়। মিরপুর স্টেডিয়াম আগে এরচেয়ে বেশি উইকেটের পতন দেখেনি। ২০০৩ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে টেস্টে ১৮ উইকেটের পতন হয়েছিল। টেস্ট ক্রিকেটে একদিনে সবচেয়ে বেশি ২৭ উইকেটের পতন হয় ১৮৮৮ সালে। কাল হয়তো তেমন হতো না। কিন্তু তারপরও উইকেটের বাউন্সের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেননি কেউই। বোলাররাও ভালো বোলিং করেছেন ধারাবাহিকভাবে। বাংলাদেশের বোলারদের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের বোলাররাও ভালো করেছেন মনে করেন টাইগার অধিনায়ক, ‘খেয়াল করলে দেখবেন ওরা অনেক মিতব্যয়ী বোলিং করেছেন। কোনো লুজ বল দেয়নি। ওদের পেসাররা যেমন ভালো বোলিং করেছেন। তেমনি আমাদের স্পিনাররাও ভালো করেছেন। ভালো করেছেন বলেই এতো উত্তেজনা ছিল ম্যাচে।’ ১০১ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ০ রানে প্রথম তিন ব্যাটসম্যান হারানো এবং ৬২ রানে ৬ উইকেটের পতন- স্কোর বোর্ডের এমন চিত্র কিন্তু পরিষ্কারভাবেই বলবে ম্যাচ হেরে যাওয়ার আশঙ্কার কথা। এমন পরিস্থিতির পরও টাইগার অধিনায়কের কখনই মনে হয়নি ম্যাচ হারতে পারেন, ‘হ্যাঁ, ম্যাচটি কঠিন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু আমার কখনই মনে হয়নি আমরা হারতে পারি। চাপে থাকার পরও আমি ও রিয়াদ ভাই যখন ব্যাটিং করছিলাম, তখন পরিকল্পনা ছিল কমপক্ষে ২০ রানের জুটি গড়ার। এতে ব্যবধানটা ১৫-১৬ হয়ে যেত। শুভাগতের বিদায়ের পর শাহাদাত বেশ কয়েকটি বল ভালো খেলেন। তাতে আমার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। ৬ উইকেটের পতনের পরও আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম জয়ের বিষয়ে।’ ক্যারিয়ারের মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলেছেন তাইজুল। আর তাতেই রেকর্ড গড়েছেন। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে এখন সেরা বোলিং তার। টানা ১৬.৫ ওভারের স্পেলে ৩৯ রানে ৮ উইকেট। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে যা সেরা। আগের রেকর্ডটি ছিল সাকিবের, ৩৬ রানে ৭ উইকেট। এমন উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পর ভূয়সী প্রশংসা ঝরে পরে অধিনায়কের কণ্ঠে , ‘অভিষেক হওয়ার পর থেকেই কঠোর পরিশ্রম করছেন তাইজুল। ওর মধ্যে যে ক্ষুধার্ত ভাব, এটাই তার সফল হওয়ার মূল কারণ।’

Copyright © 2021 Sayem Sobhan Anvir. All Rights Reserved.