Pre-loader logo

শেখ রাসেলের প্রতিশোধ

শেখ রাসেলের প্রতিশোধ

হঠাৎ জ্বলে উঠেছেন সাখাওয়াত হোসেন। তাতেই ছারখার হয়ে গেল রহমতগঞ্জ। তাঁর জোড়া গোলে প্রথম লেগে হারের প্রতিশোধও নেওয়া হলো শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের। দুই লেগে ম্যাচের ফল অবিকল ২-০, বদলেছে শুধু হাসি-কান্না! এ জয়ে ১৩ ম্যাচ শেষে শেখ রাসেল ১১ পয়েন্ট নিয়ে উঠে এসেছে ১০ নম্বরে। আর টানা তৃতীয় হারে রহমতগঞ্জ ২২ পয়েন্ট নিয়ে আছে তৃতীয় স্থানেই।
শুরুতে রহমতগঞ্জ চাপ সৃষ্টি করলেও মিসরীয় ডিফেন্ডার আহমেদ সাইদ হাসানের নেতৃত্বে ফাটল ধরেনি রাসেলের রক্ষণে। উল্টো দ্বিতীয়ার্ধে সাখাওয়াতের জোড়া গোলে জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র। দিনের অন্য ম্যাচে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব ২-০ গোলে হারিয়েছে উত্তর বারিধারাকে। ৮৪-৮৯, পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে গোল দুটি করেছেন এমেকা ডার্লিংটন এবং ল্যান্ডিং। বৈরী আবহাওয়ার কারণে আজকের দুটি ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছে।
ঠিক আগের ম্যাচে উত্তর বারিধারার কাছে হেরে শেখ রাসেলের ফিরে পাওয়া আত্মবিশ্বাস নড়ে গিয়েছিল। এরপর এ মৌসুমের দুর্দান্ত চমক রহমতগঞ্জের সঙ্গে খেলা মানেই আরেক দফা চাপ। তাই শুরু থেকে খুব সতর্ক ছিল রাসেল। রহমতগঞ্জ বারবার প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে হানা দিলেও গোলমুখ খুলতে পারেনি। আহমেদ সাইদ ও আতিকুর রহমানের সঙ্গে এ ম্যাচে অরূপ বৈদ্য ও উত্তম বণিকের যোগদানে সুরক্ষিত হয়েছে ডিফেন্স। ৩২ মিনিটে গোলরক্ষক জিয়াউর রহমান বেরিয়ে এসে বড় ভুল করেছিলেন। তাঁকে পরাস্ত করে গাম্বিয়ান দাউদা ইব্রাহিম স্কয়ার পাস ঠেলেছিলেন কঙ্গোর জুনাপিওর উদ্দেশ্যে। তাঁর পায়ে পড়ার আগেই আহমেদ সাইদ হাসান দারুণ ক্লিয়ার করে রাসেলকে বিপদমুক্ত করেছেন।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই খেলার চিত্র পালটে যায়। হঠাৎ সাখাওয়াত হোসেনও যেন ফিরে গেছেন দুই মৌসুম আগের ফর্মে, বড় ম্যাচে ঢাকা আবাহনীর জার্সি গায়ে যখন জোড়া গোল করতেন তিনি। ৫২ মিনিটে কাউন্টারে প্রথম গোলের ফিনিশিংটা ছিল দুর্দান্ত, বিশেষ করে স্থানীয় স্ট্রাইকারদের পায়ে ইদানীং এমন গোল দেখাই যায় না। রুম্মন হোসেনও মার্কারকে পেছনে ফেলে ভালো থ্রু বল বাড়িয়েছিলেন। সেই বল ধরে সাখাওয়াত রহমতগঞ্জের দুই ডিফেন্ডারকে এড়িয়ে গোলরক্ষক প্রিতমের দুই পায়ের ফাঁকে জালে পাঠিয়ে এগিয়ে নেন শেখ রাসেলকে। ৫৫ মিনিটে তাঁর দ্বিতীয় গোলে রয়েছে রহমতগঞ্জ গোলরক্ষকের অবদান। আগের ম্যাচে মোহামেডানের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দুটি গোল হজম করেছিলেন নিয়মিত গোলরক্ষক মাসুম। তাঁর আরেকটি অপরাধ ছিল ওই ম্যাচের আগে খেপ খেলতে গিয়ে। দুই নম্বর গোলরক্ষক আল আমিনও করেছিলেন একই অপরাধ। এ জন্য শাস্তি হিসেবে প্রথম দুই গোলরক্ষককে একাদশের বাইরে রেখে কাল খেলিয়েছেন তৃতীয় গোলরক্ষক প্রিতমকে। সুযোগটা কাজে না লাগিয়ে তিনি করে বসেছেন মারাত্মক ভুল। রহমতগঞ্জের নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার এলিটা বেঞ্জামিন হেডে বল ক্লিয়ার করেন। একদমই নিরীহ বল, বাইলাইন অতিক্রম করে যাচ্ছে। কর্নার ঠেকাতে দৌড়ে গিয়ে প্রিতম গ্রিপে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই বল ছোঁ মেরে কেড়ে নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন ফাঁকা পোস্টে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ২-০তে এগিয়ে নেন দলকে। এ নিয়ে জাতীয় দলের এ স্ট্রাইকারের গোলসংখ্যা বেড়ে হয়েছে চার।
ম্যাচে ফেরার জন্য পরের ৩৫ মিনিট যথেষ্ট হলেও রহমতগঞ্জ পারেনি। আক্রমণ করলেও মিডফিল্ডার মোস্তফা জাত্তার অনুপস্থিতিতে খোলেনি গোলমুখ। তাই দুই বিদেশি স্ট্রাইকার খেলিয়েও কোনো লাভ হয়নি। অন্যদিকে শেখ রাসেলও দুই গোল ধরে রাখতে ডিফেন্সে বাড়তি মনোযোগী হয়। রুম্মনের বদলি হিসেবে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ক্যামেরুনের ইকাঙ্গাকে নামিয়ে রাসেল কোচ শফিকুল ইসলাম ব্যর্থ করে দিয়েছেন রহমতগঞ্জের ম্যাচে ফেরার সব প্রচেষ্টা।
আস্তে আস্তে কেমন যেন ফিকে হয়ে যাচ্ছে রহমতগঞ্জ। প্রথম লেগে দুর্দান্ত খেলে শিরোপার দৌড়ে থাকা দলটি দ্বিতীয় লেগের দুটি ম্যাচেই হেরেছে। প্রথম ১১ ম্যাচে অপরাজিত থাকার পর তারা প্রথম লেগের শেষ ম্যাচে হেরেছিল আবাহনীর কাছে। এরপর দ্বিতীয় লেগের শুরুতে মোহামেডানের কাছে হারার পর কাল শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের প্রতিশোধে পুরান ঢাকার দলটি পেয়েছে টানা তৃতীয় হারের বিস্বাদ।

Copyright © 2021 Sayem Sobhan Anvir. All Rights Reserved.