Pre-loader logo

বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে আগুন নেভানোর মহড়া

বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে আগুন নেভানোর মহড়া

রাজধানীর পান্থপথে বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের আটতলায় হঠাৎ আগুনের ধোঁয়া। মুহূর্তে বেজে ওঠে অগ্নি-সংকেত (ফায়ার অ্যালার্ম)। আতঙ্কে মার্কেটের ভেতরে লোকজন দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করে। বাঁচাও বাঁচাও করে অনেককে বের হয়ে আসতে দেখা যায়। ধোঁয়ায় সবকিছু অন্ধকার। ছোটাছুটি আর চিৎকারে ভয়াবহ পরিস্থিতি। পান্থপথের আকাশ ধোঁয়াশাচ্ছন্ন। মার্কেটের নিচে শত শত মানুষের ভিড়। রাস্তায় থেমে গেছে গাড়িগুলো। আশপাশের ভবনের ছাদে ভয়ার্ত মানুষ। অগ্নিকাণ্ডে তড়িৎ ব্যবস্থা হিসেবে দেখা গেল, শপিং মলটির নিরাপত্তারক্ষীরা আগুন নেভানোর যন্ত্রপাতি নিয়ে যে যার মতো করে বেজমেন্ট থেকে লেভেল ৮-এ উঠছেন। আহতও হয়েছেন তাঁদের কয়েকজন। শপিং মলের ফায়ার ইউনিটের সদস্যরা আগুন নেভাতে ব্যস্ত। চলছে তাঁদের উদ্ধার তৎপরতা। সাইরেন বাজিয়ে ১৫ মিনিটের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও হাজির। দ্রুত ক্রেন দিয়ে লেভেল ৮-এর ছাদে উদ্ধারকর্মীরা একের পর এক উঠে পড়ছেন। আহতদের নামিয়ে নিচ্ছেন। দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। হ্যান্ডমাইকে সবাইকে নানা ধরনের সতর্কতা জানানো হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসকর্মীদের পক্ষ থেকে। নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা লাঠি হাতে উৎসুক জনতাকে সামাল দিচ্ছেন। এভাবে আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নেভানো হয়। পাঠক ভয়ের কারণ নেই। এটা ছিল একটি মহড়ার ঘটনা। বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর এবং বসুন্ধরা সিটি কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে অগি্ন দুর্ঘটনা প্রতিরোধের এই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। তবে বসুন্ধরা সিটি আয়োজিত এ অগ্নিকাণ্ড মহড়া যাঁরা দেখেছেন, তাঁদের অধিকাংশই বুঝতে পারেননি যে এটি আসল অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নয়। বসুন্ধরা মার্কেটের ফায়ার অফিসার ইনচার্জ সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে বসুন্ধরা সিটির সব স্তরের কর্মকর্তা, ফায়ার সেফটি বিভাগ, কর্মচারী, ক্লিনাররা মহড়ায় অংশ নেন। মহড়ায় ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তর ও মোহাম্মদপুর স্টেশনের চারটি ইউনিটের মোট ১৬ জন কর্মী অংশ নেন। ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মনির হোসেন ফায়ারকর্মীদের নেতৃত্ব দেন। মহড়ার সময় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা (টেকনিক্যাল) ও বসুন্ধরা সিটির ইনচার্জ টি আই এম লতিফুল হোসেন, বসুন্ধরা সিটির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন ও নিরাপত্তা) মেজর (অব.) শফিকুর রহমান, বসুন্ধরা সিটির নির্বাহী পরিচালক (হিসাব) শেখ আবদুল আলীম, ফায়ার অফিসার ইনচার্জ সাখাওয়াত হোসেন ও বসুন্ধরা সিটির অন্য কর্মকর্তারা। সকাল ১১টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী মহড়া অনুষ্ঠান চলে। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা টি আই এম লতিফুল হোসেন মহড়া শেষে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘দেশের যেকোনো শপিং মলের চেয়ে বসুন্ধরা সিটি অনেক নিরাপদ। এখানকার প্রতিটি তলায় অগি্ননির্বাপণের ব্যবস্থা আছে। আমাদের নিজস্ব আধুনিক ও বিশ্বমানের ফায়ার টিম আছে।’ লতিফুল হোসেন বলেন, ‘২০০৯ সালের ১৩ মার্চ বসুন্ধরা সিটিতে যে অগ্নিকাণ্ড হয়েছিল, তখনো আমি ছিলাম। তারপর আমরা আমাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো বাড়িয়েছি। বিপদের সময় মানসিকভাবে যাতে প্রস্তুত থাকা যায়, সে জন্যই এই মহড়া। এই রকম মহড়া প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ও জাতীয়ভাবে জরুরি।’ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মনির হোসেন বলেন, ‘রাস্তায় যানজট থাকা সত্ত্বেও আমরা খবর পাওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যে উপস্থিত হয়েছি। তবে সবার উচিত আগুনের ব্যাপারে সতর্ক থাকা। ফোনে ফায়ার সার্ভিসের নম্বর সেভ করে রাখা উচিত। আগুন লাগামাত্রই অপেক্ষা না করে ১৯৯ নম্বরে কল করে জানাতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই ধরনের মহড়ার কারণে অনেকেই আকস্মিক দুর্
ঘটনা থেকে কিভাবে দ্রুত নিজেকে রক্ষা করা যায় তা জানতে পারেন। নিয়মিত সব বড় ভবনে এমন মহড়া করা উচিত।’

Copyright © 2021 Sayem Sobhan Anvir. All Rights Reserved.