Pre-loader logo

বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে ঢুকতেই পাথরের গায়ে লেখা- ‘দাঁড়াও পথিকবর যথার্থ বাঙালি যদি হও…এখানে ঘুমিয়ে আছে বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা।’ শ্রদ্ধাবনত হয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়ালেন শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের কর্মকর্তারাও। এরপর পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর করলেন কবর জিয়ারত। দুপুরের নিস্তব্ধতাকে ভেদ করে সুললিত কণ্ঠের কোরআন তিলাওয়াত তখন কানে বাজছে। টুঙ্গিপাড়ার আকাশে-বাতাসে শোকের আবহ। ভাবগম্ভীর পরিবেশে এভাবেই গতকাল বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করে বিনম্র শ্রদ্ধা জানায় মান্যবর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের রানার্স-আপ শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র।
শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের দিনভর কর্মসূচির শুরু সকালে সরকারি শেখ মুজিবুর রহমান কলেজ প্রাঙ্গণে মিলাদ মাহফিল দিয়ে। কলেজ প্রাঙ্গণ ছাড়াও বালাডাঙ্গা এস এম মুসা স্কুল, শেখ রাসেল শিশু নিকেতন আর শেখ রাসেল দুস্থ শিশু প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গণভোজ করানো হয় প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে। এই এলাকার মানুষ এমনিতেই বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারকে ভালোবাসে হৃদয় দিয়ে। এখন থেকে একইভাবে ভালোবাসবে শেখ রাসেল ক্লাবকেও।
২০১২ সালে ট্রেবল জেতার পর পথ হারিয়েছিল শেখ রাসেল। তবে শেখ রাসেলের চেয়ারম্যান ও দেশের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এবার প্রিমিয়ার লিগের রানার্স-আপ হয়ে সঠিক ট্র্যাকে ফিরেছে তারা। গত ২৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ক্লাবকর্তাদের নিয়ে দেখা করে আগামী আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য দল গড়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সায়েম সোবহান আনভীর। বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত শেষে সেই কথাই জানালেন ক্লাবের ‘ডিরেক্টর ইন চার্জ’ ইসমত জামিল আকন্দ লাভলু, ‘সেদিন প্রধানমন্ত্রী আমাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। সায়েম সোবহান আনভীরের জন্যই যে আমরা রানার্স-আপ হয়েছি, প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন সে কথাও। ক্লাবের চেয়ারম্যান আমাদের সাহায্য-সহযোগিতা করছেন উদার হস্তে। তাঁর সহযোগিতায় আমাদের ক্লাব সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আশা করছি, আগামীবার আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দলই গড়ব।’
১৯২০ সালে টুঙ্গিপাড়াতেই জন্মগ্রহণ করেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এখানকার আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠা শেখ মুজিবের নেতৃত্বেই পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙেছিল বীর বাঙালি। সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি বাংলাদেশকে যখন এগিয়ে নিচ্ছিলেন, তখনই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘটে ইতিহাসের বর্বরতম হত্যাযজ্ঞ। রাতের আঁধারে হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে বিপথগামী একদল সেনা, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে সপরিবারে। দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা। তবে বাঁচেননি বঙ্গবন্ধুর পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে সর্বকনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেলও। মায়াভরা সেই মুখের দিকে তাকিয়েও হাত কাঁপেনি খুনিদের। বুলেটের নির্মম আঘাতে কচি ওই দেহটা নিথর করে দেয় পাষণ্ডরা। শেখ রাসেলের স্মৃতিকে জাগরূক রাখতেই ১৯৯৫ সালে গড়ে ওঠে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। সায়েম সোবহান আনভীরের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সেই দল এখন ফুটবল পরাশক্তি।
ছুটি ও জাতীয় দলের হয়ে কয়েকজন অস্ট্রেলিয়া যাওয়ায় গতকাল কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসেননি ক্লাব ফুটবলাররা। তবে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের ‘ডিরেক্টর ইন চার্জ’ ইসমত জামিল আকন্দ লাভলু, মীর সমীর (সহসভাপতি), সালেহ জামান সেলিম (পরিচালক, ক্রীড়া), পরিচালক শাজাহান কবির, আবুল কাশেম, স. ম. হাসান জামান, হামিদুল হক শামীম, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, এস এম জাহাঙ্গীর, খলিলুর রহমান, মোহাম্মদ শামসুল আরেফীন, হাবিবুর রহমান মান্নু, আলিমুজ্জামান আলম, কাজী কামরুল আহমেদসহ অন্যরা। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেড চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী মাকসুদুর রহমান, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা, পৌর মেয়র ইলিয়াস হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লিগ সভাপতি শেখ আব্দুল হালিমসহ এলাকার গণ্যমান্যরা।
কবর জিয়ারত শেষে সমাধির বাইরে ‘দাঁড়াও পথিকবর যথার্থ বাঙালি যদি হও…’ লেখাটা দেখে আরো একবার দাঁড়ালেন শেখ রাসেল কর্তারা। এরপর শোককে শক্তিতে পরিণত করার শপথ নিলেন সবাই। সায়েম সোবহান আনভীরের নেতৃত্ব তাঁরা এগিয়ে যেতে চান উজ্জ্বল আগামীর পথে।

Copyright © 2021 Sayem Sobhan Anvir. All Rights Reserved.