Pre-loader logo

প্রত্যন্ত এলাকায় জ্বালানির জন্য এলপি গ্যাস সেরা বিকল্প

প্রত্যন্ত এলাকায় জ্বালানির জন্য এলপি গ্যাস সেরা বিকল্প

বাংলাদেশের মানুষ মাথাপিছু মাত্র আধা কিলোগ্রাম গ্যাস ব্যবহার করে। এশিয়ার অন্যান্য দেশে মাথাপিছু গ্যাসের ব্যবহার বাংলাদেশের তুলনায় ১০ গুণ বেশি। বাংলাদেশের মফস্বল শহর ও গ্রাম এলাকার মানুষকে গ্যাস সুবিধা দিতে সিলিন্ডারে করে এলপি (লিকুইড পেট্রোলিয়াম) গ্যাস সরবরাহ হতে পারে সবচেয়ে ভালো বিকল্প ব্যবস্থা। এলপি গ্যাস নিরাপদ এবং এটি কম কার্বন ছড়ায়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘এলপি গ্যাস বেস্ট প্র্যাকটিসেস’ শীর্ষক এক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। প্যারিসভিত্তিক বিশ্ব এলপি গ্যাস অ্যাসোসিয়েশন (ডাবি্লউএলপিজিএ) ওই কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় আলোচকরা বলেন, গৃহস্থালিসহ বিভিন্ন কাজে জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহারের ফলে দেশের বনজ সম্পদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের মাত্রাও বাড়ছে। কিন্তু দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর কাছে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব নয়। পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস ব্যবহার হলে তা চুরি ও অপচয় হয় প্রচুর। উল্লেখ্য, বর্তমানে পাইপলাইনের মাধ্যমে মাসে ৪৫০ টাকা (একচুলা) দিয়ে সীমাহীন গ্যাস ব্যবহার করতে পারে মানুষ। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারদর ও শুল্কের কারণে এলপি গ্যাসের দাম অনেক বেশি। বর্তমানে বছরে প্রায় ৪২ হাজার টন এলপি গ্যাস আমদানি করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীরবিক্রম) বলেন, ‘দেশে জ্বালানি সমস্যা অত্যন্ত প্রকট। গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকছে। বিদ্যুৎ চাহিদার ৩০ শতাংশ ঘাটতি। প্রতিবছর দুই থেকে তিন শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে না জ্বালানির অভাবে। সরকার জ্বালানি সমস্যা মেটাতে এলপি গ্যাসের দিকে নজর দিচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’ তৌফিক-ই-ইলাহী বলেন, কিছু মানুষ ভর্তুকি মূল্যে গ্যাস ব্যবহার করছে। আবার অনেকে বেশি দামে কিনে ব্যবহার করছে। এটা একটা বৈষম্য। এলপি গ্যাস ব্যবহার করে জ্বালানি সমস্যা কিভাবে মোকাবিলা করা যায় তা নিয়ে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা হয়েছে। এর ব্যবহার বাড়ানোর জন্য সরকার সম্ভবের মধ্যে সব কিছু করবে। উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় দরিদ্র মানুষকে সহায়তা দেওয়ার কথা বলেন। সরকারও সে লক্ষ্যে কাজ করছে।’ দরিদ্র মানুষকে সহায়তার জন্য তিনি গ্রাম এলাকায় নেটওয়ার্ক বাড়ানোর তাগিদ দেন। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এতে খরচ কমবে। ফলে মানুষ আরো কম দামে এলপি গ্যাস ব্যবহার করতে পারবে। বিশ্ব এলপি গ্যাস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক ডেভিড টাইলার বলেন, এলপি গ্যাস একটি ব্যতিক্রমী জ্বালানি। বিশ্বে বছরে দুই কোটি টন এলপি গ্যাস উৎপাদন হয়। দেড় কোটি যানবাহন চলে এই গ্যাস দিয়ে। বাংলাদেশে এর সম্ভাবনা বিশাল। এ দেশে এলপি গ্যাস শিল্প বিকাশ লাভ করছে। এ শিল্পের আরো বিকাশের জন্য প্রয়োজন সুষম প্রতিযোগিতার পরিবেশ। এ দেশের মানুষকে গ্যাস সুবিধা দিতে সরকার ও বেসরকারিখাতকে অংশীদারির ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। দেশের প্রথম এলপি গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বেসরকারি কম্পানিগুলোকে এলপি গ্যাস এবং এ সম্পর্কিত অন্যান্য উপকরণ আমদানিতে গড়ে ২৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ শুল্কহীন। জ্বালানি উপদেষ্টা আশ্বাস দিয়েছেন, এ বৈষম্য দূর করতে তিনি যতটুকু সম্ভব করবেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘জ্বালানি দেশের এক নম্বর সমস্যা। এই সমস্যার এক শতাংশ সমাধান করতে পারলেও আমরা নিজেদের সার্থক মনে করব।’ অনুষ্ঠানে দেশের এলপি গ্যাস খাতের অবস্থা তুলে ধরেন টোটাল গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিভি সুব্রামানিয়াম। এ সময় ক্লিনহিট গ্যাসের পরিচালক জ্যাক লাও, যমুনা স্পেসটেক জয়েন্টভেঞ্চার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বেলায়েত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

Copyright © 2021 Sayem Sobhan Anvir. All Rights Reserved.