Pre-loader logo

আফসোস নেই সাকিবের

আফসোস নেই সাকিবের

মিরপুর ও খুলনায় জিতে আগেই টেস্ট সিরিজ নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। বাকি ছিল হোয়াইটওয়াশ। চট্টগ্রামে সেই স্বাদও পূর্ণ হয়েছে স্বাগতিকদের। ২০১৪ সালটি যে মুশফিকবাহিনীর জন্য দুঃস্বপ্নের মতো কেটে, সেটাও মুছে ফেলতে সক্ষম হয়েছে এই হোয়াইটওয়াশের মধ্য দিয়ে। তারপরও একটু আক্ষেপই থেকে গেল সাকিব আল হাসানের।
তিন ম্যাচের এই টেস্ট সিরিজে স্বাগতিকদের হয়ে ধারাবাহিকভাবে পারফরম্যান্স করেছেন বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। তাদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন সাকিব আল হাসান ও মুমিনুল হক সৌরভ। সাকিব পুরো সিরিজে একটি সেঞ্চুরিসহ ২৫১ রান এবং ১৮টি উইকেট নিয়েছেন, যেখানে আর দুটি উইকেট পেলে তিনি চলে যেতেন অন্য উচ্চতায়। সামান্য একটুর জন্য নতুন রেকর্ড গড়া হয়নি সাকিবের। এদিকে, শেষ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩১ রান করে নিজের ধারাবাহিকতারই প্রমাণ দিয়েছেন মুমিনুল হক। সেই সঙ্গে তিনি এখন ২০টি ইনিংস খেলা ক্রিকেটারদের মধ্যে গড় রানের দিক দিয়ে স্যার ডন ব্রাডম্যানের পরেই অবস্থান করছেন। কক্সবাজারের এই ক্রিকেটারের বর্তমান গড় ৬৩.০৫। তাই চট্টগ্রাম টেস্ট শেষে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কারটি উঠেছে মুমিনুলের হাতে। পাশাপাশি সিরিজসেরার পুরস্কার পেয়েছেন সাকিব আল হাসান।
চট্টগ্রাম টেস্ট শুরুর আগে সাকিবের প্রয়োজন ছিল ৩টি উইকেট। কিন্তু নিতে পেরেছেন মাত্র ১টি উইকেট। তাই টেস্ট সিরিজে ২৫০ রান এবং ২০টি উইকেট নেয়ার মাইলফলকে পেঁৗছতে পারলেন না। এতে আফসোস নেই বাঁহাতি এই অলরাউন্ডারের। তিনি মনে করেন, ভাগ্য সহায় ছিল না বলেই উইকেট পাওয়া হয়নি। চট্টগ্রাম টেস্ট শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাকিব বলেন, ‘না, কোনো আফসোস নেই । আর কেনই বা আফসোস থাকবে। প্রথম দুই টেস্টে যদি ১৭ উইকেট না পেতাম? যদি ১০টি হতো? তাছাড়া ভাগ্যেরও দরকার হয়। শেষ টেস্টে এটা ছিল না। তাই এই টেস্টে হয়নি। এটা নিয়ে কোনো আফসোস নেই। হলে ভালো লাগত। হয়নি, তাতে কোনো সমস্যা নেই।’
সিরিজসেরার পুরস্কার আর এই সিরিজে নিজের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, ‘সিরিজসেরা হতে পেরে অবশ্যই ভালো লাগছে। তাছাড়া একটা ভালো অনুভূতি থাকে মনের ভেতর। কারণ, কমপক্ষে দলের জন্য অবদান রাখতে পেরেছি। বলতে পারেন, ওটারই স্বীকৃতি। আসলে সিরিজের মাঝে সেভাবে কখনোই বিশ্লেষণ করিনি। হয়তো বা আরো ভালো করতে পারতাম। ব্যাটিংয়ে আরেকটু ভালো করতে পারতাম। তারপরও আমি সন্তুষ্ট।’
প্রত্যাবর্তনের সিরিজে কোনো টার্গেট ছিল কিনা_ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ও রকম কোনো লক্ষ্য কখনোই ছিল না আমার। একেক সময় একেকজনের একেক লক্ষ্য তৈরি হয়। আগেও যেটা বলেছি, দলের জন্য অবদান রাখা। এটা করতে পারলে খুশি লাগে। আর ভালো খেললে সবচেয়ে বড় জিনিস যেটা হচ্ছে, নিজের কাছে ভালো লাগে। যখন আমি ভালো খেলতে পারি না কিংবা দলের জন্য অবদান রাখতে পারি না, তখন নিজের কাছে খুবই খারাপ লাগে। আমি ভালো খেলতে পারলাম না। তখন একটা তাড়না থাকে। আর ভালো খেললে তো ভালোই লাগে। মন খুশি থাকলে তো সবই খুশি।’
যখন পারফর্ম করেন, তখনই স্পেশাল কিছু মনে হয় কিনা_ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসলে স্পেশাল কিছু না। তবে হ্যাঁ, বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলাটা খুবই স্পেশাল। যেহেতু এই খেলাটা আমার পছন্দের, ভালো খেললে ভালো লাগে। আর এ কারণে খেলার মজাটা ওখানেই।’
এদিকে, চট্টগ্রাম টেস্টে ম্যাচসেরা হয়েছেন মুমিনুল হক। ম্যাচ শেষে টেস্টসেরা হওয়ার অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে মুমিনুল বলেন, ‘রান করলে সব সময়ই ভালো লাগে। এখান থেকে আমার বাড়ি খু্বই কাছে (কক্সবাজার)। এখন বাড়িতে গিয়ে ভালো লাগবে। ম্যাচে তামিম ও ইমরুল শতক পেয়েছে। জুবায়েরও ভালো বোলিং করেছে। আর আমরা সঠিকভাবেই এগিয়ে যাচ্ছি।’
নিজে স্যার ডন ব্রাডম্যানের পাশাপাশি অবস্থান করার বিষয়ে খুবই বিব্রত বোধ করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কখনো অত বড় মাপের খেলোয়াড় হতে পারব বলে আপনাদের মনে হচ্ছে? তারপরও কেন এই তুলনা, বুঝতে পারছি না। হ্যাঁ, বুঝতে পারছি, তার গড়ের পাশে আমার অবস্থান। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, তিনি তো এখন খেলছেন না, তাই হয়তো এই অবস্থান। আর এজন্য কি তার সঙ্গে তুলনা। না না, কখনোই না।’

Copyright © 2021 Sayem Sobhan Anvir. All Rights Reserved.